1. accessinfotechlimited@gmail.com : admi2019 : Crime Talash 24
  2. eleas015@gmail.com : ILIAS HOSEN : ILIAS HOSEN
শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন

মেস ভাড়া নিয়ে মালিকদের রূঢ় আচরণ মানবতার লঙ্ঘন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ জুন, ২০২০
  • ৭৪২ বার পঠিত
ই - পেপার দেখুন
ই - পেপার দেখুন

 

আব্দুল্লাহ নুর, জবি প্রতিনিধিঃ 

 

করোনা ভাইরাসের সংকটময় পরিস্থিতিতে মেস ভাড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে টিউশন ও খণ্ডকালীন কাজ বন্ধ থাকায় বাসা ভাড়া জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাসা ভাড়া আদায়ে রূঢ় আচরণও করছেন অনেকে। বাসা মালিকদের এমন আচরণ মানবতার লঙ্ঘন, বলে উল্লেখ করেছেন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং ছাত্র উপদেষ্টা ড. শামছুল কবির। এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি বার্তা লিখেন তিনি। লিখাটি নিচে উল্লেখ করা হলো।

‘ইদানিং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ফেসবুকে কিছু পোস্ট নজরে আসলো যা আমাকে ভাবিয়ে তুললো এবং পিতৃতুল্য একজন শিক্ষক হিসেবে মেনে নিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে।

একটি কলেজ থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু। ২০০৫ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো; একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হতে গেলে তার অনেকগুলি অবকাঠামো থাকা অপরিহার্য ও যুক্তিসংগত; যেমন- উপাচার্যের বাসভবন/বাংলো, শিক্ষকদের অাবাসন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন, বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের থাকার হল/হোস্টেল, উচ্চতর গবেষণা সেলসহ ইত্যাদি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি এর কিছুই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নাই। কিন্তু কেন, কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সেই সময় এটি প্রতিষ্ঠিত করা হলো তা আমার বোধগম্য নয়।

উল্লেখ্য বর্তমানে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৭ টি বিভাগ/ইনস্টিটিউট আছে, প্রায় ৭০০(সাতশ) জন শিক্ষক আছে, অসংখ্য কর্মকর্তা কর্মচারী আছে, প্রায় ২৫০০০ (পঁচিশ হাজার) জন ছাত্র-ছাত্রী আছে। বলা চলে সবাই উদবাস্তু আকারে জীবন যাপন করতে হয়। বিশেষ করে যাদের জন্য এই লেখাটি তারা হলো আমার সন্তানতুল্য প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ। যেহেতু তাদের কোন হল নেই, থাকার ব্যবস্থা নেই। ফলে তাদেরকে ভাড়া মেসে থাকতে হয়, অন্যের বাড়ি-বাসা ভাড়া নিয়ে গাদা-গাদি করে থাকতে হয়। এমনকি মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়।

এখানকার ছাত্র ছাত্রীদের বেশিরভাগই প্রাইভেট/টিউশনি করে থাকা ও খাওয়ার বন্দোবস্ত করতে হয়। এমনকি অনেক ছাত্র-ছাত্রীর টিউশনির আয় দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণের ব্যবস্থা হয়। কিন্তু বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কারণে গত তিন মাস (০৩) ধরে তাদের কোন টিউশনি নাই, এছাড়া অনেককে বাড়ি চলে যেতে হয়েছে। ফলে তাদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় তাদের অনেকের নিজের, নিজের পরিবারের ভরণপোষণ চালানো খুবই কষ্ট হয়ে পড়েছে। প্রবাদ মনে পড়ে গেল- মরার উপর খড়ার ঘা। কারণ একদিকে করোনা ভাইরাসের কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের টিউশনি নাই, বাড়িতে সংসারে টাকা দিতে পারছেনা, অন্যদিকে মেস ভাড়া দিতে পারছেনা এবং বাড়িওয়ালার বাসা ভাড়া/মেস ভাড়া দিতে পারছেনা বলে মালিকরা অনেকের সাথে রূঢ়/খুবই খারাপ আচরণ করছে, তাদের অনেককে বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য নোটিশও করেছে যা মানবতার লঙ্ঘন।

উপায়ন্তর না দেখে অনেককে বাসা ছেড়ে বাড়িতে চলে যেতে হচ্ছে। এই উদ্ভুত পরিস্থিতিতে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের গরীব-অসহায় ছাত্র-ছাত্রীদের সহযোগিতায় সকলের এগিয়ে অাসা উচিত বলে আমি মনে করি। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
আমরা জানি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমান স্যার খুবই ভালো মানুষ। তাঁর অনেক মহৎ গুণাবলি আছে যা বলে শেষ করা যাবে না। আশা করি আমার এই পোস্টটি স্যারের নজরে আসলে তিনি বিষয়টি মানবিক দিক বিবেচনায় আমলে নিয়ে অসহায় ছাত্র-ছাত্রীদের সহযোগিতায় এগিয়ে অাসবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 Crimetalash24.com
Customized By SuperSoftIT
themesbazcrimetala121