মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি :-শামছুল ইসলাম সোহাগঃ-
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় অসহায় দুই শিশু ও এক বৃদ্ধার বাড়িতে খাদ্য সামগ্রী এবং নগদ অর্থ পৌঁছে দিলো পুলিশ।
জানা যায় শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে নগদ অর্থ এবং খাদ্য সামগ্রী চাল, ডাল, আটা, মুড়ি, তেল, সেমাই, চিনি, ও পেঁয়াজ তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয।
গত সপ্তাহে রাতের কোন এক সময় একই ঘরে মা ও মেয়ে খুন হয়েছিল। ২০২০ সালের ৫ই জুনের জোড়া খুনের ঘটনাটি ছিল শ্রীমঙ্গলে ব্যাপক আলোচিত।
ঘটনার দু’দিনের মাথায় জোড়া খুনের প্রধান আসামী আজগর আলীকে আটক করে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ। আসামি আজগর আলী ওই রাতে খুন হওয়া ইয়াসমিন আক্তার (২৫) এর স্বামী।
গত (৭জুন) মৌলভীবাজার বিজ্ঞ আদালতে আসামী আজগর আলীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি মতে তার হাতে লোহার পাইপ দ্বারা নির্মমভাবে খুন হয় শাশুড়ি জায়েদা বেগম (৫৫) ও স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার (২৫)।
আজগর আলীর একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই দুটি অবুঝ শিশু সন্তানের জীবনে নেমে আসে অনিশ্চয়তার অন্ধকার। ৭ বছরের শিশু ইব্রাহিম ও ৫ বছরের শিশু ফাহিমের মুখে সব সময়ই যেন দেখা যায় মেঘলা আকাশের ছাপ।
শিশু দুটি বড় অসহায় হয়ে পড়েছে এই পৃথিবীতে। মা ও নানী খুন হওয়ার পর। খুনের মামলায়
বাবা আজগর আলীর স্থান হয় জেলে।
দাদা মজলিস মিয়া অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। দাদি নেওয়া বেগমও অন্য এক পুরুষকে বিয়ে করে বাড়ি ছাড়েন। অসহায় শিশু দুটির স্থান হয় বাবা আজগর আলীর দাদি অনাহারে দিন কাটানো ৭২ বছরের বৃদ্ধা ফুলচান বেগমের কাছে। যেখানে ফুলচান বেগম নিজেই কোন বেলা পেট ভরে খেতে পান না।
সেই বা কি করে খাওয়াবে অবুঝ শিশু ইব্রাহিম ও ফাহীমকে।
স্থানীয়দের মাধ্যমে শিশু ইব্রাহিম ও শিশু ফাহিম এবং বৃদ্ধা ফুলচান বেগমের অনাহারে দুর্দশায় দিন কাটানোর খবর পান মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার। এমন খবরে পুলিশ সুপার মো.ফারুক আহমেদ পিপিএম (বার) এর নির্দেশে (শ্রীমঙ্গল- কমলগঞ্জ সার্কেল) এর সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মো. আশরাফুজ্জামানের সার্বিক তদারকি ও শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুছ ছালেক এর উদ্যোগে অসহায় শিশু দুটি ও বৃদ্ধা ফুলচান বেগমের দুই মাসের খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ সিন্দুরখান ইউনিয়নের বেলতলী গ্রামে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়।
এসব নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী গুলি পৌঁছে দেন শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নয়ন কারকুন, উপ-পরিদর্শক মো. মুহিন উদ্দিন, এএসআই মো. নজরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন , স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলা।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান বলেন দিনভর শ্রীমঙ্গলে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। এই অবস্থায় জানতে পারি শিশু দুটির অনাহারে দিন কাটানোর কথা। জেলা পুলিশ সুপার মো. ফারুক আহমেদ এর নির্দেশে শ্রীমঙ্গল থানার (ওসি) আব্দুছ ছালেক এর সাথে কথা বলে শিশু ইব্রাহিম ও ফাহীম এবং বৃদ্ধা ফুলচান বেগমের জন্য দুই মাসের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও কিছু নগদ অর্থসহ খাদ্য সামগ্রী দিয়ে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন প্রয়োজনে তাদেরকে সব সময় সাহায্য করা হবে যাতে তারা খাবারের কষ্টে দিন কাটাতে না হয়।
Leave a Reply