রুহুল আমিন রুকু কুড়িগ্রামঃ
কুড়িগ্রমের জেলা সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের হত-দরিদ্র বিধবা ভিক্ষুক সরকারিভাবে কোন ত্রাণ সামগ্রী না পাওয়ায় অতি কষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরেজমিনে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের চড়সিতাইঝাড় (নয়ারহাট) গ্রামের মৃত হানি ফকিরের কন্যা হাজরন এর সাথে গত ১৩বছর পূর্বে পার্শ্ববর্তী এলাকার নবাব আলী সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিয়ের পর হাজরনের ঘরে একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেয় নাম রাখে হাফিজুল বর্তমান বয়স ৮ বছর সংসার জীবনে কিছুদিন ভালো চললেও নবাব আলীর প্যারালাইসেস রোগে আক্রান্ত হয়। স্বামীর কোন উপার্জন ক্ষমতা না থাকায় হাজরনের ঘরে অন্ধকার নেমে আসে। দুজনে একসাথে ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে নেয় বিভিন্ন বাসা বাড়ি পাড়া-মহল্লায় গ্রামগঞ্জে ভিক্ষা করে দিন চলে। ছেলে বড় হলেও লেখাপড়া করার সামর্থ্য নেই। বিবাহের পর কুড়িগ্রাম চর জীবিকায়ন প্রকল্প কলাবাগান চরে একটি ভিটা নির্মাণ করে দেয় এতে খুপড়ি ঘর তুলে আশ্রয় নেয়। অন্যের জমিতে আশ্রয় নেওয়ায় সেখান থেকেও সরে আসতে হয় তাদের। অবশেষে মৃত্যু পিতা হানি ফকিরের বসতবাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। অতি কষ্টে ভিক্ষাবৃত্তি করে ছেলে ও স্বামী স্ত্রী জীবন সংসার চলে গত ২ বছর পূর্বে হাজিরন এর চোখে ছানি পড়ে যায় তারপরও জীবন-জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন বাসা বাড়িতে ভিক্ষাবৃত্তি করে চলতে হয়। দুজনের থাকার একটিমাত্র ঘর সে ঘরের বেড়া ছিল না তার জন্মদাতা মায়ের সহযোগিতায় কয়েকদিন আগে ঘরটি বেড়া দেয় পুরাতন টিন দিয়ে মাটির উপর ছেড়া কাথার বিছানায় রাত কেটে যায় তাদের। বেগমগঞ্জ মাস্টার পাড়া গ্রামের ভিক্ষা করা অবস্থায় চোখে পড়ে এ প্রতিবেদকের জিজ্ঞেস করলে চোখের পানি ফেলে হাজেরা জানায় আমার স্বামী নবাব আলী গত শনিবার অর্থাৎ২-৫-২০২০ইং তারিখে নবাব আলী মৃত্যুবরণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ভিক্ষুক হাজেরার আসল ঠিকানা এ প্রতিবেদক বিষয়টি স্বচক্ষে দেখেন তার ঘরে কোন খাবার মজুদ নেই দু'মুঠো ভিক্ষা করে প্রতিদিন খাবার জোগাড় করতে হয় স্থানীয় লোকজন বিষয়টির সত্যতা জানান বর্তমান প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি থাকায় ভিক্ষা করতে যাইতে পারে না। তিনি রোজা রেখেছেন এবং জানান যে স্থানীয় ইউপি মেম্বার কাছে সহযোগিতা চেয়েও কোন ফল পাইনি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বাবলু মিয়া সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি ভিক্ষুক হাজরা কে তার সাথে দেখা করতে বলেন। উক্ত ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লোকমান আলীর সাথে কথা হলে তিনি এ ব্যাপারে সত্যতা স্বীকার করেন এবং জানান যে তার আইডি কার্ড হারিয়ে যাওয়ায় সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়নি।
অফিস : প্লাট নং ১৪ , রোড নং ০২,
সেক্টর ০৬, উত্তরা আবাসিক এলাকা
ঢাকা -১২৩০
+88 01938897695,01720-010780
ইমেইল: dailycrimetalash@gmail.com
Web Design by: SuperSoftIT.com