চাল চোরদের লাল কার্ড প্রদর্শন
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
করোনা ভাইরাস মহামারিতে যে সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতা এবং জনপ্রতিনিধিরা ত্রাণের চাল চুরি করছে সমাজের সর্বস্তর থেকে তাদেরকে লাল কার্ড প্রদর্শনের আহবান জানিয়েছেন ‘দেশ বাচাও, মানুষ বাচাও আন্দোলন’ নামের একটি সংগঠন।
১৪ মে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানব বন্ধনে সংগঠনটির সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন এ আহবান জানান।
রিপন বলেন, খেলার মাঠে যেমন কোনো খেলোয়ার অপরাধ করলে তাকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়। তেমনি এই করোনা পরিস্থিতিতে যে সকল জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা সরকারের ত্রাণ কারযক্রমের চাল আত্নসাৎ করছে, চুরি করছে তাদের আজকে এই মুহুর্তে আমরা লাল কার্ড দেখাচ্ছি। তাদের আর রাজনীতি করার অধিকার নেই, তাদের জনপ্রতিনিধি থাকার অধিকার নেই। তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করুন। সমাজের সর্বস্তর থেকে তাদের লাল কার্ড দেখান।
রিপন বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখা যাচ্ছে যত করোনা রোগী সনাক্ত হচ্ছে পাল্লা দিয়ে তার চেয়ে বেশী চাউল চোর ধরা পড়ছে এবং দূর্ভাগ্যজনক হলো চোরেরা ক্ষমতাসীন দলেরই লোক! এসব রাষ্ট্র ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়-বরং রাষ্ট্র ব্যবস্থারই অংশ। আর এ কারণেই কিছুদিন আগে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্র মেরামতের দাবী করেছিল। কিন্তু তাদের ন্যায্য কথা কানেই তুলেনি বরং মেরে কুটে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল! যার মাশুল দিতে হবে আমাদের দীর্ঘদিন।
তিনি বলেন, (কোভিট-১৯) করোনা মহামারীতে মৃত্যুর মিছিল থামাতে গোটা দুনিয়া যখন দিশেহারা! বিশ্বের সব মানবিক সরকারগুলো যখন নাগরিকদের জীবন বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তখন বাংলাদেশে কিছু মানুষরুপী নরপশুরা ক্ষুধার্ত মানুষের রিলিফ চুরি করতে মাতোয়ারা! এদের জন্যে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি খাদের কিনারায়! রিলিফ চোররা যে দলেরই হোক আজীবন দলীয় পদসহ সংগঠন থেকে বহিস্কার করতে হবে, যত ক্ষমতাসীনশালীই হোক দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে- কিন্তু এটি খুব একটা দৃশ্যমান নয়।
রিপন আরও বলেন, মার্কিন নৌবাহিনী বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী থমাস মেডলী নৌবাহিনীতে যথাযথ নিরাপত্তা দিতে না পারায় পদত্যাগ করেছেন। জার্মানীর এক প্রাদেশিক অর্থমন্ত্রী করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় পদত্যাগ করেছেন। আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডাঃ লিও ভারাদকার করোনা মহামারী মোকাবেলায় পূনরায় চিকিৎসা পেশায় ফিরেছেন। পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী রাতৃ নিজ কাঁধে খাদ্য সামগ্রী পিয়ে জনগণের মধ্যে বিলিয়েছেন। বৃটেনের প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী করোনা থেকে নাগরিকদের রক্ষায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে নিজেরাও আক্রান্ত হয়েছেন। বিশ্বের মানবিক সরকারগুলো নিজেদের নাগরিকদের করোনার ভয়াল থাবা থেকে বাঁচানোর জন্য যখন আপ্রাণ চেষ্টা চালানোর পরও যখন মৃত্যুর মিছিল থামছেই না!
আমরা প্রায় ৩মাস সময় পাওয়ার পরেও পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে পারলাম না! জানি কাজটি কঠিন, তবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমন্বিত চেষ্টা চালানো গেলে, বিমান বন্দর, স্থল বন্দর, নৌ বন্দরগুলো ভালভাবে চেক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারলে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণে থাকতো। যা ভুল হওয়ার হয়ে গেছে , আর নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মেনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সর্বোচচ সংখ্যক নাগরিকদের করোনা পরীক্ষার আওতায় এনে আক্রান্তদের ভেন্টিলেশন, প্রয়োজনীয় আইসিও-এর সংখ্যা দ্রুত বাড়িয়ে সর্বাধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে জীবন বাঁচাতে মরনপণ চেষ্টা চালিয়ে মৃত্যুর মিছিল ছোট করতে হবে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র ২০১৯ সালের তথ্যমতে এদেশের সোয়া তিন কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করে! সেখানে দারিদ্রসীমার নিচে বাস করা কর্মহীন লোকজনকে ঘরে আটকাতে হলে দু’মুঠো অন্ন তুলে দিতে হবে এবং সেটা রাষ্ট্রীয়ভাবেই । ব্যক্তি বা সমাজের পক্ষে এ বিশাল জনগোষ্ঠীর ক্ষুধা নিবারন করা কতটুকুই বা সম্ভব? ব্যক্তি, সমাজ ও সংগঠনের অনেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনি অবস্থায় বিশাল ক্ষুধার্ত জনগোষ্ঠী ক্ষুধার জ্বালায় রাস্তায় নেমে আসাটাই স্বাভাবিক। যত দ্রুত সম্ভব ব্যক্তি , সমাজ , সংগঠন , রাষ্ট্র সবাই মিলে ক্ষুধার্ত জনগোষ্ঠীকে বাঁচানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। নইলে হাহাকার লেগে যেতে পারে! মানুষকে ঘরে আটকানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে! করোনা আর ক্ষুধা দু’য়ে মিলে যেন না খায় আমাদের! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প ঘুম থেকে উঠে যখন দেখবে তার ভাল চাকরি ছিল, ব্যবসা ছিল এখন কিছু নেই তখন সেদেশের নাগরিকরা হতাশায় মাদকাসক্ত ও আত্নহত্যার পথ বেছে নিতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন! আমাদের দেশে সন্তানের ক্ষুধা মেটাতে না পেরে কোনও বাবা-মা যেন আত্নহত্যার পথ বেছে না নেয় সম্মিলিতভাবে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া অতীব প্রয়োজন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোসহ অনক দেশের রাষ্ট্র প্রধান নাগরিকদের ঘরে থাকার জন্য খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেয়াসহ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে চলেছেন। এই মুহূর্তে মানুষের জীবন বাঁচানো জরুরী! দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এমন রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মহাসচিব মোঃ আবুল খায়ের আদর্শ নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি মোঃ মাহমুদুল হাসান সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি এডভোকেট শফি নেওয়াজ নাসির সহ-সভাপতি অলিউর রহমান অলি যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মোঃ জিয়াউল হক মোস্তফা গাজী দুদু আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট আব্দুর রহিম মো: জুয়েল রানা প্রমুখ।
কেএইচ