1. accessinfotechlimited@gmail.com : admi2019 : Crime Talash 24
  2. eleas015@gmail.com : ILIAS HOSEN : ILIAS HOSEN
শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ০৬:১০ অপরাহ্ন

আজ পালন হচ্ছে না, তবুও আজ চৈত্র সংক্রান্তি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২০
  • ৩৩৩ বার পঠিত
ই - পেপার দেখুন
ই - পেপার দেখুন

 

বরগুনা জেলা প্রতিনিধি:
মোঃবশিরুজ্জামান শাওন

আজ বাংলা ১৪২৬ সনের শেষ দিন। বছরের শেষ এ দিনটিকে চৈত্র সংক্রান্তি বলা হয়। ঘটা করে দিনটা উদযাপনও করা হয় প্রতিবছর। চৈত্র সংক্রান্তি মানে বর্ষ শেষের উৎসব, লোকমেলার আয়োজন, গান-বাজনা, যাত্রাপালাসহ নানা আয়োজনে লোকজ সংস্কৃতির নানা সম্ভার। কিন্তু সব উৎসবের গলা চেপে ধরেছে ভয়ঙ্কর ভাইরাস করোনা।

আগামীকাল ১৪২৭ সনের প্রথম দিন বাংলা নববর্ষ। প্রতি বছর জীর্ণ পুরাতন সবকিছু ভেসে যাক, ‘মুছে যাক গ্লানি’ এভাবে বিদায়ী সূর্যের কাছে কাল এ আহ্বান জানাবে গোটা বাঙালি জাতি। এমনটাই হবার কথা ছিলো।

কিন্তু এবারের পেক্ষাপট ভিন্ন। করোনা ভাইরাস মহামারি আকার নেয়ায় এবছর চৈত্র সংক্রান্তি কিংবা নববর্ষ উদযাপন হচ্ছে না। এ নিয়ে বালা ভাষাভাষিদের মধ্যে খেদ থাকলেও ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সবাই বিনাবাক্যে মেনে নিয়েছেন। তাই এবার আর হচ্ছে না, বর্ষবরণ ঘটা করে পালন।

বিদায় নিচ্ছে আরও একটি বাংলা বছর। আজ ১৪২৬ বঙ্গাব্দের শেষ দিন ৩০ চৈত্র। আজ শেষ দিন ঋতুরাজ বসন্তেরও। কিন্তু এ বছর এ দিনটিতে কোন উৎসব নেই। নেই প্রতি বছরের মতো শিল্পকলা একাডেমিরও কোন আয়োজন।

আবহমানকাল থেকেই বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়ে আসা চৈত্রসংক্রান্তির পার্বণ উদযাপন এবার আর হচ্ছেনা।

অথচ বাংলা সন ১৪২৬ তার শেষ গান গেয়ে বিদায় নেবে আজ। বসন্তকে বিদায় জানিয়ে আসবে নতুন বছর। নতুন দিনের বারতা নিয়ে আসবে বৈশাখ।

চৈত্রসংক্রান্তির দিন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শাস্ত্র মেনে স্নান, দান, ব্রত, উপবাস করে কাটান। নিজ নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী অন্য ধর্মাবলম্বীরাও নানা আচার অনুষ্ঠান পালন করেন। ঘরোয়াভাবে কিছু হয়তো পালন হবে তার।

চৈত্র মাসে স্বামী, সংসার, কৃষি, ব্যবসার মঙ্গল কামনায় লোকাচারে বিশ্বাসী নারীরা ব্রত পালন করতেন। এ সময় আমিষ নিষিদ্ধ থাকত। জিয়ল মাছ (পানিতে জিইয়ে রাখা যায় এমন মাছ) যেমন কৈ শিং মাগুরের ঝোল করে খেতেন তারা। থাকত নিরামিষ, শাকসবজি আর সাত রকমের তিতো খাবারের ব্যবস্থা। বাড়ির আশপাশ বিল খাল থেকে শাক তুলে রান্না করতেন গৃহিণীরা।

এই চাষ না করা, কুড়িয়ে পাওয়া শাক খেতে বাগানে বেশি বেশি পাওয়া গেলে বিশ্বাস করা হতো-সারা বছরের কৃষি কর্ম ঠিক ছিল। ফলে নতুন বছর নিয়ে দারুণ আশাবাদী হয়ে উঠতেন তারা।

গ্রামের নারীরা এ সময় সাজগোছ করেন ঘরদোর। মাটির ঘর লেপন করে ঝকঝকে করেন। গোয়ালঘর পরিষ্কার করে রাখাল। সকালে গরুর গা ধুয়ে দেওয়া হয়। ঘরে ঘরে চলে বিশেষ রান্না। উন্নতমানের খাবার ছাড়াও তৈরি করা হয় নকশি পিঠা, পায়েস, নারকেলের নাড়ু।

দিনভর চলে আপ্যায়ন। গ্রামের গৃহস্থরা এ দিন নতুন জামা কাপড় পরে একে অন্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। জানি, এসবের অনেক কিছুই হবেনা এবার। চৈত্রসংক্রান্তির আরেকটি বড় উৎসব ‘চড়ক’, এবার তাও হবেনা।

গ্রামের জনপদে চৈত্রসংক্রান্তির মেলা না হওয়ায় বিক্রি হবেনা মাটি, বাঁশ, বেত, প্লাস্টিক ও ধাতুর তৈরি বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্র ও খেলনা। বিক্রি হবেনা বিভিন্ন প্রকার খাবার, মিষ্টি ও দই। হবেনা বায়স্কোপ, সার্কাস, পুতুল নাচ বা কোনো হইচই। তবু আজ চৈত্র সংক্রান্তি।

চৈত্র সংক্রান্তি এক সময় গ্রামীণ জনপদের প্রধান উৎসব হলেও কালের প্রবাহে একসময় নাগরিক জীবনেও স্থান করে নেয়।

এ উপলক্ষে দেশজুড়ে এখনো চলে নানা ধরনের মেলা, উৎসব। হালখাতার জন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাজানো, লাঠিখেলা, গান, আবৃত্তি, সঙযাত্রা, রায়বেশে নৃত্য, শোভাযাত্রাসহ নানা অনুষ্ঠান। করোনা ভাইরাস এবার সব কিছুকে আটকে দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 Crimetalash24.com
Customized By SuperSoftIT
themesbazcrimetala121