স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই তিন দিন ধরে উঠোনে অনশন করছেন পারুল রানী রায়।
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি মোঃ মাসুম বিল্লাহ
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের পশ্চিম মেলাবর গ্রামে পারুল রানী রায় নামের এক নারী তিন দিন ধরে উঠোনে বসে অনশন করছেন। তার একমাত্র দাবি—স্বামী ভূপাল কান্তি রায় যেন তাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করেও পারুল রানী রায় তার অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, জলঢাকা উপজেলার কৈমারী রথবাজার গ্রামের সুবল চন্দ্র রায়ের মেয়ে পারুল রানীর বিয়ে হয় কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের পশ্চিম মেলাবর গ্রামের ডিজেন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে অবিনাশ চন্দ্র রায়ের সঙ্গে। এক সন্তানের জন্মের কিছুদিন পর স্বামী অবিনাশ মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর পারুল রানীর জীবনে ভর করে অন্ধকার।
এই সময়ে পারুলের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে শুরু করেন তার চাচা শ্বশুরের অবিবাহিত ছেলে ভূপাল কান্তি রায়। পরস্পরের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। সেই সম্পর্ককে সামাজিক স্বীকৃতি দিতে ২০২১ সালে মন্দিরে ও ২০২২ সালে কাজীর মাধ্যমে বিয়ে করেন তারা। পারুল রানীর দাবি, বিয়ের সময় ৩০ লক্ষ টাকা নগদ ও স্বর্ণালঙ্কার দেওয়া হয়েছিল।
বিয়ের পর তিন বছর ভূপালের কর্মস্থলে সংসার করেছেন পারুল। সব কিছু ভালোই চলছিল। হঠাৎ করে তুচ্ছ একটি ঘটনা নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। এরপর থেকে ভূপাল পারুলকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করছেন।
অবস্থার চরম ironi হলো, যখন পারুল উঠোনে বসে অনশন করছেন—ঠিক তখনই ভূপাল নতুন বউ বাড়িতে এনে ধুমধাম করে বউভাত করছেন।
পারুল রানী বলেন, “আমি তার সঙ্গে তিন বছর সংসার করেছি। এখন সে আমাকে অস্বীকার করছে। আমি স্ত্রীর স্বীকৃতি চাই, ন্যায়ের দাবি জানাচ্ছি। স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত আমি এখান থেকে উঠব না।
কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি কোর্টে চলমান থাকায় আমরা সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারছি না। আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সমাধান হতে হবে।
এই ঘটনাটি এখন শুধু একজন নারীর অধিকারের লড়াই নয়—বরং আমাদের সমাজে নারীর মর্যাদা, সম্মান ও স্বীকৃতির প্রশ্নেও এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।