প্রতিনিধি: মোঃ মাসুম বিল্লাহ, কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার রণচন্ডী শামসুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক (শরীরচর্চা) নবিবুর রহমানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অর্থ আত্মসাৎ ও জাল সনদ দাখিলের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নেয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত ও সিদ্ধান্ত
গত ৯ মার্চ ২০২৫ মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মতিন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে নবিবুর রহমানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৯ সালের চাকরির শর্ত বিধিমালার ১১ ও ১৫ ধারা অনুযায়ী নবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে মাদ্রাসার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। মাদ্রাসার মন্ত্রণালয়ের অডিট কর্মকর্তার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তার বি.এ (২য় বিভাগ) ২০০২ সালের মূল সনদপত্র প্রদানের জন্য বলা হলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে তা দিতে ব্যর্থ হন। ফলে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি তার বেতন-ভাতা স্থগিত করে।
এরপর তিনবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরে তার সনদের ফটোকপি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুরে যাচাই করা হলে সেটি জাল প্রমাণিত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাদ্রাসাকে পত্র পাঠায়।
পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত
২৭ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে পরিচালনা কমিটির সভায় তার নিয়োগপ্রাপ্ত সনদটি জাল বলে প্রমাণিত হওয়ায় বেতন-ভাতা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৬ মার্চ ২০২৫ তারিখে মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভায় তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রশাসনের বক্তব্য
মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী বলেন,
“নবীবুর রহমান জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি নিয়েছেন এবং মাদ্রাসার অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তাকে তিনবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও কোনো জবাব দেননি। তাই পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”
মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মতিন বলেন,
“অর্থ আত্মসাৎ ও জাল সনদের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আমরা যথাযথ নিয়ম মেনেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
অভিযুক্ত শিক্ষকের অবস্থান
নবীবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সততার প্রশ্ন ও শিক্ষাক্ষেত্রে জবাবদিহিতা
শিক্ষাক্ষেত্রে জালিয়াতি ও দুর্নীতি রোধে এ ধরনের ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নবীবুর রহমানের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্ত শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।